‘তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করতেই ড. কামালকে আনছি’

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সঙ্গে রব মজুমদার নামে এক ব্যক্তির ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। সেখানে মজুমদার নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ব্যারিস্টার মইনুলকে বলতে শোনা যায়, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্ব ‘ধ্বংস’ করার জন্য (বিএনপি জোটের) নেতৃত্বে আনা হয়েছে ড. কামাল হোসেনকে’।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন জনৈক মজুমদারের সাথে প্রায় আড়াই মিনিটের ওই ফোনালাপে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রসঙ্গেও কথা বলেন। কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়।

ফোনালাপটি তুলে ধরা হলো:

মইনুল: কী খবর মজুমদার সাহেব?

মজুমদার: জ্বী, স্লামালাইকুম স্যার। কেমন আছেন স্যার আপনি?

মইনুল: আছি, জেলের ভাত কয়েকদিন খেতে হবে আমাকে। সেজন্য রেডি হইতেছি।

মজুমদার: আচ্ছা আচ্ছা…

মইনুল: আজকেতো বেইল (জামিন) নিয়া আসলাম, কেস করছে দুইটা। আরও একটা নাকি করছে। মামলা- কামলা দিয়ে এরা…মামলা-কামলার নামে হইলো রাজনীতি।

মজুমদার: (হাসি)

মইনুল: করুক দেখি…। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে, এই মেয়েটার পক্ষে ৫ শতাংশ লোক, আর ৯৫ শতাংশ লোক আমার পক্ষে, প্রথম আলো একটা সার্ভে উঠাইছে। একটা মেয়েলোক যে এতো বাজে হইতে পারে, আমিতো জানতাম না।

মজুমদার: (হাসতে হাসতে) … স্যার, আরেকটা নিউজ স্যার, এটা একটা রিউমার উঠছে যে, আপনি আর ড. কামাল সাহেব মিলে নাকি লন্ডন যাচ্ছেন, তারেকের সঙ্গে মিটিং করার জন্য?

মইনুল: (অস্পষ্ট স্বরে) অ্যাঁ বাদ দেন…

মজুমদার: (হাসি) হ্যাঁ স্যার?

মইনুল: তারেকের সঙ্গে আমরা মিটিং করতে যাবো! এটা কোথাকার ছাগল?… গোট না কাউ? ড. কামালসহ তারেকের কাছে যাবো…! আমরা তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্য ড. কামালকে আনছি।…আচ্ছা দোয়া কইরেন।

মজুমদার: (হাসতে হাসতে) জ্বী স্লামালাইকুম স্যার। ভালো থাকবেন।

প্রসঙ্গত: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৩ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’ নামে নতুন জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে নিয়ে এ জোট গঠিত হয়। গণফোরাম সভাপতি ড. কামালের সঙ্গে জোট বাঁধার প্রক্রিয়ায় যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী থাকলেও তাকে বাদ দিয়েই এ জোট গঠন করা হয়। ঐক্যফ্রন্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যুক্ত রয়েছেন।

এরমধ্যে গত ১৬ অক্টোবর রাতে টেলিভিশনের টক শো’তে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে কটূক্তি করেন মইনুল হোসেন। এর পর থেকে সমালোচনার মুখে পড়েন মইনুল। এক পর্যায়ে তিনি টেলিফোন করে ক্ষমা চাইলেও মাসুদা ভাট্টি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

তা না করায় মইনুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানেও মানহানির অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।

এসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর মইনুল কয়েকটি মামলায় হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন নিলেও রংপুরেরটিতে জামিন ছিল না বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

রংপুরের মামলাটি হয় সোমবার বিকালে, মানহানির অভিযোগে মামলাটি করেন আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের কর্মী মিলি মায়া। অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা মামলাটি গ্রহণ করে মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

পর রাত ১০টার দিকে ঢাকার উত্তরায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম রবের বাড়ি থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’