মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- কবি বলেছেন, ‘আমি কোনো অভ্যাগত নই, আমি কোনো আগন্তুক নই। আমি এই মাটি থেকে উত্থিত সাধারণ ভূমিপুত্র।’ মানুষ হিসেবে আমিও হয়তো তাই। নইলে সাতক্ষীরা সুলতানপুরের মাটি আমাকে ডাকবে কেন? তার আকাশ-বাতাস, মধ্যরাতের অগুনতি তারা, শিস দেওয়া ভোরের পাখি, শায়েরের খাল, দীঘির জলে অবাধ ডুবসাঁতার প্রতিনিয়ত শৈশব-কৈশোরের হাহাকার আমাকে জাগিয়ে রাখে কেন? আমাকে কাতর করে। একসময় অনুভব করি, আমার জন্মের দায়। জন্মভিটা আর মাতৃত্বের কান্না তাড়িত করে। আমি তাকে এড়াতে পারি না। বরং মনে হয়- প্রিয় সুলতানপুর, প্রিয় সাতক্ষীরা তোমাদের বুকে জড়িয়ে এই আমি, তোমাদেরই সন্তান, মাটি ও মানুষের ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমাকে গ্রহণ করো।

শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে শিক্ষাগ্রহণের জন্য যখন বৃহত্তর পরিসরে পা বাড়াই, তা ছিল একজন কিশোরের জন্য বেদনার্ত সময়। প্রিয় সুলতানপুর আমাকে ডাকে, প্রিয় সাতক্ষীরা আমাকে ডাকে, শৈশবের বন্ধুরা ভালোবাসায় আমাকে পেছনে টেনে ধরে। আমি বলি, দেখিস, আমি ঠিকই ফিরে আসব। জননী জন্মভূমি তোমাকে নিয়েই তো এই জীবনের যত স্বপ্ন-সাধ। না, আমি কাউকে ভুলিনি। দুরন্ত সময়ের ঘেরাটোপে বন্দি যে দিনরাত্রি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে সাতক্ষীরার আপামর মানুষের মুখ। আর তার জন্য আমাকে তৈরি করতে হয়েছে তাদের যোগ্য সন্তান হিসেবে। তার জন্য সাতক্ষীরার মানুষের ভালোবাসা ছিল আমার একমাত্র সম্বল।

শিক্ষাজীবন শেষ করে আমার প্রথমে মনে হয়েছিল, আমি মানুষের জন্য কিছু করব। তার জন্যই ছিল আমার আন্তরিক প্রচেষ্টা। জন্মগতভাবে আমি এবং আমার পরিবার স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির ধারক-বাহক। বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বুকে ধারণ করে এই আমি নিজেকে আবিষ্কার করি, তার মতো মানুষের কল্যাণের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করব।

তাই বেছে নিয়েছিলাম সংবাদপত্র। একমাত্র সংবাদপত্রই পারে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বরের ভূমিকা পালন করতে। দেশ ও জাতির সত্যিকার চিত্র তুলে ধরতে। অন্যায়-অবিচার, মানুষের মূল্যবোধ লুণ্ঠনকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে প্রতিষ্ঠা করলাম জাতীয় দৈনিক ভোরের পাতা ও দ্যা ডেইলি পিপলস টাইম। সেই আমার স্বপ্নের সুতীক্ষ্ণ হাতিয়ার। দৈনিক ভোরের পাতা ও দ্যা ডেইলি পিপলস টাইম। যা আজ চৌদ্দ বছরে পদার্পণ করেছে। সমগ্র বাংলাদেশে দৈনিক ভোরের পাতা, দ্যা ডেইলি পিপলস টাইম মানুষের বিবেকের দায়ভার নিয়ে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। অর্জন করেছে আপামর জনগণের ভালোবাসা। বিগত সময় স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে দৈনিক ভোরের পাতার ভূমিকা ছিল রাজপথে লড়াকু সৈনিকের চেয়েও প্রতিবাদী ও পথ-প্রর্দশক। তাই বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার সত্যনিষ্ঠ ভূমিকাকে ভালোবেসে পৃথিবীর বহুদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গী করে নিয়ে গেছেন। আমার মতো একজন অভাজনের প্রতি তাঁর এই মহানুভবতার ঋণ এই জীবনে শোধযোগ্য নয়। তাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মহান এই মানুষটির জন্য বাংলার মানুষের কল্যাণময় কর্মকে বিদেশে তুলে ধরার দায়িত্ব নিয়ে আরো একটি ইংরেজি দৈনিক প্রতিষ্ঠা করি। দ্যা ডেইলি পিপলস টাইম। পত্রিকাটি পাঠকপ্রিয়তা নিয়ে আজ সাত বছরে পদার্পণ করেছে। রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী, দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণে আমার ভূমিকা ছিল একাগ্রতায় পূর্ণ।

আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়, সততা, কর্ম এবং আল্লাহর প্রতি সমর্পণই একজন মানুষকে তার অভীষ্টে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে, মানুষকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, মানুষের কল্যাণে নিজেকে উজাড় করে দিতে হয় এবং মানুষের ভালোবাসা পেতে দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিরলস কর্মের মাধ্যমে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে হয়, সেশিক্ষাও তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি। মহান আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন।

প্রিয় সাতক্ষীরাবাসী, এখন আপনারাই বিবেচনা করুন, মিছিলের সৈনিকের মতো দীপ্র আমার কর্মটি কি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর নয়? বাংলাদেশকে উন্নয়নকামী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে এগিয়ে নেওয়াও ছিল জরুরি। নইলে দেশ আজ সমৃদ্ধশালী হতে সময় লাগত। একজন বঙ্গবন্ধু সৈনিক হিসেবে আমৃত্যু তাঁর সোনার বাংলা গড়ার কর্মী হিসেবে থাকতে চাই। আমি আগেই বলেছি, আমার শেকড় প্রোথিত রয়েছে সাতক্ষীরার সুলতানপুরে। সবদিক দিয়ে অবহেলিত আমার জন্মভূমি। সেই দুঃখী জন্মভূমির জন্য এবার সুযোগ এসেছে আমার মাতৃঋণ শোধ করার। আপনারা চাইলে আমাকে সেই সুযোগ দিতে পারেন। আমি আমৃত্যু চেষ্টা করব আপনাদের কল্যাণ করার। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক- ড. কাজী এরতেজা হাসান, সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাতক্ষীরা-২

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’