নীলফামারী-২ আসনে নেই আ.লীগ-জাপার জটিল সমীকরণ, ফের নৌকার মাঝি নূর!

সুমন মুখার্জি- আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগত নির্বাচনের সিদ্ধান্তে জটিল সমীকরণে পড়তে হয়েছে দুদলের শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে। কারণ বৃহত্তর রংপুরের আট জেলার মধ্যে অধিকাংশ আসনই চায় জাপা।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মনে করছেন রংপুর বিভাগে এখন নৌকার শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। তাই আসন ভাগাভাগির শঙ্কায় রয়েছেন দুদলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বৃহত্তর রংপুরের ২২ আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে কয়টি আসন ছাড় দেওয়া হবে, এ নিয়ে চলছে সর্বত্র জল্পনা-কল্পনা। সেই আলোচনা থেকে বাদ নেই নীলফামারীও।

সীমান্তঘেঁষা ৬টি উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী জেলা। ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৬৯৯ জন ভোটারের এ জেলায় জেলে, কামার-কুমারসহ অনেক খেটে খাওয়া মানুষের বাস। তিস্তা, যমুনেশ্বরী, খাগট, ধানজাই ও চিকলি নদীর স্রোতের মতোই এসব মানুষের জীবনপ্রবাহ।

উত্তরের বাণিজ্যিক জেলা হিসেবে খ্যাত নীলফামারীর ইপিজেড অঞ্চল ও শিল্প-বাণিজ্যের নগরী সৈয়দপুর উপজেলা শহর পুরো বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এ জেলাকে ঘিরে প্রতিবারই থাকে আলাদা সমীকরণ।

সংসদীয় আসন ১৩, নীলফামারী-২ (সদর) আসনটিতে রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা। আওয়ামী লীগ প্রথম, দ্বিতীয়, অষ্টম, নবম, দশম নির্বাচনে, সিপিবি পঞ্চম নির্বাচনে (আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে), জাতীয় পার্টি তৃতীয়, চতুর্থ, সপ্তম নির্বাচন ও বিএনপি ষষ্ঠ নির্বাচনে (১৫ ফেব্রুয়ারি ’৯৬) নির্বাচিত হয়।

এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামীলীগ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পর পর তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নাম আগেই ঘোষণা করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ২০০১ সাল থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। নীলফামারী পৌরসভার বর্তমান মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ। গত ২০ বছর ধরেই তিনি এ পৌরসভার মেয়র। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হকও ছিলেন জেলা পরিষদের দীর্ঘসময়ের চেয়ারম্যান। নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমানও আওয়ামী লীগ নেতা।

নীলফামারী সদর আসনের বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ জানান, এলাকায় আসাদুজ্জামান নূরের ব্যক্তি ইমেজ ভালো। সৎ ও সজ্জন হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয়। এলাকার উন্নয়নের দিকেও তার নজর রয়েছে।

নীলফামারী সদরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত। কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হয়। অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও দ্বন্দ্ব যা ছিল, মিটে গেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও দলটি সর্ম্পকে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে। সব মিলিয়ে এককভাবে শক্ত অবস্থানেই রয়েছে আওয়ামী লীগ।

দলীয় নেতা-কর্মীরাও অকপটে নূরের নের্তৃত্ব স্বীকার করে নিয়ে তার নের্তৃত্বেই কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। সে মত স্থানীয় আওয়ামীলীগের কেউই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। ফলে নীলফামারী-২ আসনে আসাদুজ্জামান নূরের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। কার্যত, আওয়ামীলীগের সাথে একাদশ সংসদ নির্বানেও জোটগত নির্বাচন করলেও এবারও যে আসাদুজ্জামান নূরের আসনের ব্যাপারে তারা কোন আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করতে পারবে না তা পরিস্কার হয়ে গেল।

নীলফামারীর বাকি তিনটি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বসে আছেন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। এ তিনটি আসনে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী মনোনয়নের দাবিতে অনড়।

এর পরের প্রতিবেদনে পড়ুন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)’র জোট-মহাজোটের প্রার্থী সমীকরণ।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’