রংপুর চিড়িয়াখানা, ভালবাসার নামে অশ্লীল কর্মকান্ডের স্বর্গরাজ্য!

আসাদুজ্জামান সুজন, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর- রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকায় ১৯৮৯ সালে গড়ে তোলা হয় রংপুর চিড়িয়াখানা। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ৯২ সালে খুলে দেয়া হয়। প্রায় ২১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানাটি দেশের দু’টি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে একটি।

১’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে বিনোদন উদ্যান রংপুর চিড়িয়াখানা। খাঁচায় বন্দি প্রাণীদের বনের মুক্ত পরিবেশ দেয়া প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হবে। প্রশস্ত সেড বা খাঁচাতেই বন্য পরিবেশে তারা বিচরণ করতে পারবে। চার পাশের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে প্রাণীদের জন্য থাকবে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি। রাত যাপনের জন্য শেড বা খাঁচার ভেতরেই থাকবে আলাদা ঘরের ব্যবস্থা।

মনোরেলে চড়ে ঘুরে ঘুরে দর্শনার্থীরা দেখবে বন্য পরিবেশে পশুপাখি। বনের পশুপাখি দেখে বিনোদন পাবার আশাতেই এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। আদরের সন্তানদের বন্য প্রাণী দেখার বায়না মেটাতে প্রতিনিয়ত চিড়িয়াখানায় যান শত-সহস্র বাবা-মা। কেউ কেউ পারিবারিক অবকাশ কাটাতেও ছুটে যান হর-হামেশা। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা সফরের জন্যও বেছে নেয় এই চিড়িয়াখানা।

কিন্তু আদৌ কি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আছে রংপুর চিড়িয়াখানায়? এখানে প্রবেশ করলে সাধারণ দর্শনার্থীদের চেয়ে জোড়ায় জোড়ায় কপোত-কপোতীদের বেশী দেখা যায়। আর প্রেমের নামে তাদের অশ্লীল কার্যকলাপের তোপে কোন রুচিশীল ব্যক্তি যে চিড়িয়াখানায় স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য।

শুধু ভালবাসা দিবস নয়, রংপুর চিড়িয়াখানায় নষ্ট প্রেমকুঞ্জে এমন প্রেমিক জুটির দেখা মেলে সারা বছরই। পরিবার পরিজন নিয়ে চিড়িয়াখানায় গেলে পড়তে হয় চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। এখন অবস্থা এমনই দাড়িয়েছে যে, পরিবার পরিজন নিয়ে চিড়িয়াখানায় কেউ যান না বললেই চলে। এর মূল কারণ রংপুর চিড়িয়াখানা কার্যত পরিণত হয়েছে নষ্ট এক প্রেমকুঞ্জে। এ অবস্থা বন্ধ করতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সমাজের সচেতন মহল।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’